মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ভাষা ও সংষ্কৃতি

ভাষা : ভাষার জন্য আন্দোলন, বুকের রক্ত ঢেলে দেয়া, পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। বাংলার দামাল ছেলেরা তাজা রক্তের বিনিময়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছিনিয়ে আনে ভাষার অধিকার। প্রতিষ্ঠা পায় বাংলা ভাষা। অত্র উপজেলার সকল শ্রেণীর মানুষই বাংলা ভাষায় কথা বলেনএই উপজেলায় মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবল্বীর লোক বসবাস করে। এদের মূল ভাষা বাংলা, আরবী ও ইংরেজিসহ স্ব-স্ব গোত্রীয় ভাষা রয়েছে। বাংলা ভাষা ছাড়াও ইংরেজী, আরবি ও উর্দু ভাষায অনেকই  পারদর্শী। অন্যান্য উপজেলার তুলনায় এই উপজেলায় আদিবাসীদের বসবাস বেশী তারা তাদের আঞ্চলিক ভাষা দিয়ে কথা বলে। তবে শিক্ষিতরা চলিত ভাষায় কথা বলে। অনেক সময় তাদের প্রয়োজনে আঞ্চলিক ভাষা দিয়ে ও কথা বলে।  

 

সংস্কৃতি : এই অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতি বেশ সমৃদ্ধ। মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে এলাকার বেশির ভাগ কৃষি কাজের উপরে নির্ভরশীল। এছাড়া চাকুরী, ব্যবসা-বাণিজ্য, তাত শিল্প, মৎস চাষ, প্রভৃতি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। আমাদের দেশের বৈশাখী মেলার কোন ধর্ম্গত দিক পরিলক্ষিত হয় না। এর কোন ধর্মীয় ভিত্তি নেই। এটি বাঙালির সংস্কৃতি হিসেবে চিহিৃত। সংস্কৃতির ধারার একটি বিশিষ্ট উৎসব হিসেবে প্রতিবছর এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।  মুসলমান,হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান প্রত্যেক ধর্ম্র লোক সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে এ মেলায় আসে। জাতি ধর্ম-রর্ণ্ নির্বিশেষে সবাই এক অপেরর সাথে মেলায় মিলিত হয়।জারী, সারি, ভাটিয়ালী, কীর্তন, ধোয়া গান সহ নানা গ্রামীণ সংস্কৃতি পালন করে থাকে। ঈদ , পূজা, বাংলা নববর্ষসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতীয় ‍উৎসবে মেতেউঠে। এলাকার মানুষ গ্রামীন বাংলার  লোকজ সংস্কৃতির চর্চায় সবর্দা তৎপর। এর মধ্যে জারি, সারি, ভাটিয়ালী, লালনগীতি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এই উপজেলায় অনেক আগে থেকে গ্রামীন বা লোকজ সমৃদ্ধ সংস্কৃতির পরিচয় মিলে । বৃটিশ শাসনামলে কীর্তন, জারী,পালাগান, কবিগান, বাউল, মুর্শিদী, লোকগীতি, ভাওয়াইয়া, যাত্রা ইত্যাদি অনুষ্ঠান হতো নানা উৎসব উপলক্ষ্যে । সারা রাত জেগে জ্যোৎসণারাতে লোকজন পুঁথিপাঠ, পাঁচ টাকার কিসমা (রাত চুত্তিুতে গল্প কথা) শুনতেন ।রংপুর দিনাজপুরের দক্ষিণাংশে এই জেলা ভাওয়াইয়া গানের প্রভাবাধীন। আগে জমিদার বাধনাঢ্য পোতদার ব্যক্তিরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মধ্যে হা-ডু-ডু, লাঠিখেলা এখন্ ও এই উপজেলার বিভিন্ন মেলায় আয়োজন করা হয়ে থাকে।